Kichu Chitkar Ache Lyrics (কিছু চিৎকার আছে )

Kichu Chitkar Ache Song Info

কথা ও সুরঃ ইথার
সংগীতঃ হাইওয়ে 
কম্পোজিশন ও প্রোডাকশনঃ ইথার এ্যালবাম 
কভার ডিজাইনঃ ফারহান ইসলাম হীরা

Kichu Chitkar Ache Song Lyrics

তোমাদের সব হিসাবের পরেও আমার 
কিছু কথা আছে,
কেও কি শুনতে পাও? 
যখন তা চিৎকার করে। 
তোমাদের সব যুক্তির পরেও আমার
কিছু ব্যথা আছে, 
কেও কি শুনতে পাও? য
খন তা চিৎকার করে। 
তোমাদের সব হিসাবের পরেও আমার 
কিছু হিসাব আছে, 
কেও কি শুনতে পাও? 
যখন তা চিৎকার করে। 
নীরবে, নীরবে, নীরবে 
নীরবে আমার কিছু নীরবে অনুভুতি 
নীরবে, নীরবে, নীরবে 
নীরবে আমার কিছু নীরবে অভিমান 
নিভৃতে... কোন ভাষা নেই বলার 
কোথাও... নেই কেও নেই 
এ অনন্ত অসীম পথে, 
যাচ্ছ একাই অভীমানে,
কি লাভ মেনে নাও 
তুমি আর তোমার ইশ্বর ছাড়া 
এই চিৎকার পোছবেনা কোথাও।

তোমাদের সব অভীমানের পরেও 
আমার কিছু অভীমান আছে, 
কেও কি দেখতে পাও? 
যখন তা অভীমান করে। 
তোমাদের সব হিসাবের পরেও 
আমার কিছু অনুভুতি আছে, 
কেও কি শুনতে পাও? 
যখন তা চিৎকার করে।
তোমাদের সব হিসাবের পরেও 
আমার কিছু চিৎকার আছে, 
কেও কি শুনতে পাও? 
যখন তা অনুভুতি করে।
নীরবে, নীরবে, নীরবে 
নীরবে আমার কিছু নীরবে অনুভুতি 
নীরবে, নীরবে, নীরবে 
নীরবে আমার কিছু নীরবে অভিমান 
নিভৃতে... কোন ভাষা নেই বলার
কোথাও... নেই কেও নেই 
এ অনন্ত অজানা পথে 
যাচ্ছ একাই 
অভীমানে, কি লাভ মেনে নাও 
তুমি আর তোমার ইশ্বর ছাড়া 
এই আওাজ যাবেনা কোথাও। 
কোথাও... নেই কেও নেই 
এ অনন্ত অজানা পথে 
যেতে হবে একাই... অভীমানে, 
কি লাভ মেনে নাও 
তুমি আর তোমার ইশ্বর ছাড়া 
এই চিৎকার পোছবেনা কোথাও।

Read More: Kar Jonno Korila Maya Lyrics

Kichu Chitkar Ache Lyrics এর বিশ্লেষণ

গানটি মূলত মানুষের অন্তর্দহন, না-বলা অনুভূতি, অস্তিত্বের নিঃসঙ্গতা এবং নিজের সত্যকে প্রকাশ করতে না পারার যন্ত্রণার কথা বলে। এখানে "চিৎকার" শব্দটি বাস্তবের চিৎকার নয়; এটি এমন এক নীরব আর্তনাদ, যা বাইরে শোনা যায় না, কিন্তু ভেতরে অবিরাম প্রতিধ্বনিত হতে থাকে। নিচে সম্পূর্ণ নতুন ভাষায় একটি মৌলিক বিশ্লেষণ দেওয়া হলো।

গানটির ভাবার্থ

মানুষের জীবনকে প্রায়ই অন্যেরা বিচার করে নিজেদের যুক্তি, হিসাব কিংবা মানদণ্ড দিয়ে। কিন্তু প্রত্যেক মানুষের ভেতরে এমন কিছু অনুভূতি, ব্যথা ও অপূর্ণতার গল্প থাকে, যা কোনো যুক্তি দিয়ে মাপা যায় না। গানের শুরুতেই বলা হয়েছে— "তোমাদের সব হিসাবের পরেও আমার কিছু কথা আছে।" এই লাইনটি বোঝায়, সমাজ যতই কোনো মানুষকে বুঝে ফেলেছে বলে ভাবুক, তার হৃদয়ের সব কথা কখনোই সম্পূর্ণ জানা সম্ভব নয়।

এরপর বারবার "কেউ কি শুনতে পাও, যখন তা চিৎকার করে?"— এই প্রশ্নটি আসলে সমাজের প্রতি এক গভীর অভিযোগ। মানুষ যখন চুপচাপ থাকে, তখন অনেকেই মনে করে তার কোনো কষ্ট নেই। অথচ নীরব মানুষের ভেতরেই সবচেয়ে বড় ঝড় বয়ে যেতে পারে। সেই অদৃশ্য যন্ত্রণাকেই এখানে "চিৎকার" বলা হয়েছে।

গানে "হিসাব" শব্দটি কেবল অর্থনৈতিক বা বাস্তব হিসাব নয়। এটি জীবনের লাভ-ক্ষতি, সম্পর্কের বিচার, সমাজের মূল্যায়ন এবং মানুষের তৈরি নিয়মের প্রতীক। গানের বক্তব্য হলো— পৃথিবী তার নিজস্ব নিয়মে একজন মানুষকে বিচার করলেও, সেই মানুষের নিজেরও কিছু অমীমাংসিত হিসাব থাকে, যা কেবল সে নিজেই জানে।

"নীরবে, নীরবে, নীরবে" অংশটি পুরো গানের আবেগকে আরও গভীর করে তোলে। এখানে বোঝানো হয়েছে, সব অনুভূতির প্রকাশ শব্দ দিয়ে হয় না। কিছু ভালোবাসা, কিছু কষ্ট, কিছু অভিমান এতটাই ব্যক্তিগত যে সেগুলো ভাষার পরিবর্তে নীরবতার মধ্যেই বেঁচে থাকে। তাই "নীরবে আমার কিছু নীরবে অনুভূতি" কথাটি এক ধরনের আত্মগোপনের প্রতীক।

গানের সবচেয়ে দার্শনিক অংশ হলো—

"তুমি আর তোমার ঈশ্বর ছাড়া এই চিৎকার পৌঁছবে না কোথাও।"

এই কথার মাধ্যমে শিল্পী বোঝাতে চেয়েছেন, পৃথিবীতে এমন অনেক কষ্ট আছে যা কেউ উপলব্ধি করতে পারে না। মানুষের ভেতরের সত্যিকারের আর্তনাদ হয়তো কেবল সে নিজে এবং তার বিশ্বাসের ঈশ্বরই জানেন। এখানে ঈশ্বর শুধু ধর্মীয় অর্থে নয়; বরং এমন এক সর্বজ্ঞ সত্তার প্রতীক, যিনি মানুষের অন্তর দেখতে পারেন।

"কোথাও... নেই কেউ নেই" লাইনটি মানুষের চূড়ান্ত একাকীত্বের প্রতিচ্ছবি। জীবনের দীর্ঘ পথে মানুষ অনেকের সঙ্গে চললেও, নিজের গভীরতম কষ্টের মুখোমুখি শেষ পর্যন্ত তাকে একাই দাঁড়াতে হয়। জন্ম, মৃত্যু, আত্মসংগ্রাম কিংবা মানসিক যুদ্ধ— এসব পথ শেষ পর্যন্ত একান্ত ব্যক্তিগত।

গানে অভিমানকে দুর্বলতা হিসেবে দেখানো হয়নি। বরং অভিমানকে এমন এক আবেগ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে, যা জন্ম নেয় অবহেলা, না-পাওয়া এবং না-বোঝার অভিজ্ঞতা থেকে। তাই "আমার কিছু অভিমান আছে" কথাটি নিজের অস্তিত্বের স্বীকৃতি দাবি করার মতো শোনায়।

শেষের পুনরাবৃত্তি— "এই আওয়াজ যাবে না কোথাও"— মানুষের অসহায়তার প্রতীক। পৃথিবীতে এমন অনেক অনুভূতি আছে, যা প্রকাশ করলেও কেউ বুঝবে না। তাই কখনও কখনও মানুষ নিজের কষ্ট নিজের মধ্যেই বহন করে বেঁচে থাকে।

গানের অন্তর্নিহিত দর্শন

এই গানটি শেখায়, মানুষের বাহ্যিক হাসি, সাফল্য কিংবা নীরবতা দেখে তার ভেতরের জীবনকে বিচার করা উচিত নয়। প্রত্যেক মানুষের হৃদয়ে এমন কিছু অদৃশ্য যুদ্ধ থাকে, যার সাক্ষী আর কেউ নয়। সহানুভূতি, মনোযোগ এবং অন্যের অনুভূতির প্রতি সম্মান— এগুলোই মানুষের সবচেয়ে বড় প্রয়োজন। কারণ অনেক সময় একজন মানুষের নীরবতাই তার সবচেয়ে উচ্চস্বরে বলা চিৎকার।

সারসংক্ষেপ

Highway ব্যান্ডের এই গানটি মূলত এক নিঃসঙ্গ আত্মার আত্মকথন। এটি এমন একজন মানুষের গল্প, যিনি নিজের ব্যথা, অভিমান ও অনুভূতিকে পৃথিবীর সামনে তুলে ধরতে চান, কিন্তু বুঝতে পারেন— সবাই শুনলেও খুব কম মানুষ সত্যিই বোঝে। তাই শেষ পর্যন্ত তিনি উপলব্ধি করেন, মানুষের অন্তরের সবচেয়ে গভীর চিৎকারের সাক্ষী হয়তো কেবল সে নিজে এবং তার ঈশ্বর। এই উপলব্ধিই গানটিকে বিষণ্ন, দার্শনিক এবং গভীর মানবিকতার এক অনন্য প্রকাশে পরিণত করেছে।


Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url