Tora Je Ja Bolis Bhai Lyrics - Rabindra Sangeet
Tora Je Ja Bolis Bhai Rabindra Sangeet Lyrics
তোরা যে যা বলিস ভাই
আমার সোনার হরিণ চাই
মন হরণ চপল চরন
সোনার হরিণ চাই
সে যে চমকে বেড়ায়, দৃষ্টি এড়ায়
যায় না তারে বাঁধা।
সে যে নাগাল পেলে পালায় ঠেলে
লাগায় চোখে ধাঁদা।
আমি ছুটবো পিছে
মিছে মিছে পাইবা নাহি পাই -
আমি আপন মনে মাঠে বনে
উধাও হয়ে ধাই।।
তোরা পাবার জিনিস হাটে কিনিস
রাখিস ঘরে ভরে -
যারে যায় না পাওয়া
তারই হাওয়া লাগলো কেন মোরে।
আমার যা ছিল তা গেল ঘুচে
জানেই তার ঝোঁকে-
আমার ফুরোয় পুঁজি
ভাবিস বুঝি মরি তারি শোকে?
আমি আছি সুখে হাস্যমুখে
দুঃখ আমার নাই।
আমি আপন মনে
মাঠে বনে উধাও হয়ে ধাই।।
Read More: Jodi Tor Dak Shune Keu Na Ase Lyrics
Tora Je Bolis Bhai Notation
“তোরা যে যা বলিস ভাই” রবীন্দ্রসঙ্গীতের ভাবার্থ:
“তোরা যে যা বলিস ভাই, আমার সোনার হরিণ চাই”—এই কথার মধ্য দিয়ে কবি এমন এক আকাঙ্ক্ষার কথা বলেছেন, যা সাধারণ কোনো প্রাপ্তির বিষয় নয়। ‘সোনার হরিণ’ এখানে অধরা স্বপ্ন, সৌন্দর্য, আদর্শ, ভালোবাসা কিংবা জীবনের সেই কাঙ্ক্ষিত আনন্দের প্রতীক—যাকে পাওয়া যায় না, তবু যার সন্ধানে মন ছুটে চলে।
অন্যরা যেখানে সহজে পাওয়া যায় এমন জিনিস সংগ্রহ করে ঘরে সাজিয়ে রাখতে চায়, কবির মন সেখানে বাঁধা পড়ে না। তাঁর আকাঙ্ক্ষা এমন কিছুর প্রতি, যা চোখের সামনে এসেও মুহূর্তে হারিয়ে যায়, কাছে গেলেই দূরে সরে যায় এবং ধরা দিতে চায় না। তাই সোনার হরিণের পেছনে ছুটে চলাই তাঁর আনন্দ।
এই অনুসন্ধান আসলে কোনো নির্দিষ্ট বস্তু পাওয়ার চেষ্টা নয়; এটি মানুষের অসীম স্বপ্ন ও কল্পনার প্রতীক। কবি জানেন, হয়তো তিনি কখনো সেই সোনার হরিণকে ধরতে পারবেন না। তবুও তার পেছনে ছুটে চলার মধ্যেই তিনি এক ধরনের মুক্তি ও আনন্দ খুঁজে পান। মাঠে-বনে আপন মনে উধাও হয়ে ছুটে চলা তাঁর সেই স্বাধীন, বাঁধনহীন মনকে প্রকাশ করে।
গানের পরের অংশে কবি বলেন, যা কিছু সহজে পাওয়া যায়, মানুষ তা কিনে ঘরে জমিয়ে রাখে। কিন্তু যে জিনিস পাওয়া যায় না, তার অদৃশ্য আকর্ষণই কেন যেন তাঁর মনে দোলা দিয়েছে। সেই আকাঙ্ক্ষার পেছনে ছুটতে গিয়ে তাঁর জীবনের অনেক কিছু হয়তো হারিয়ে গেছে, তাঁর ‘পুঁজি’ও ফুরিয়ে এসেছে। কিন্তু তাতে তাঁর কোনো আক্ষেপ নেই।
বরং তিনি হাসিমুখে বলেন—“আমি আছি সুখে, হাস্যমুখে, দুঃখ আমার নাই।” কারণ তাঁর কাছে সুখ মানে শুধু কোনো কিছু অর্জন করা নয়; বরং স্বপ্নের পেছনে ছুটে চলা, অজানাকে খুঁজে বেড়ানো এবং নিজের মনের স্বাধীনতাকে উপভোগ করা।
মূল বক্তব্য
গানটি মানুষের সেই চিরন্তন স্বভাবকে তুলে ধরে, যেখানে অধরা জিনিসের প্রতিই সবচেয়ে বেশি আকর্ষণ জন্মায়। জীবনে সবকিছু পাওয়া সম্ভব নয়—তবু কোনো স্বপ্ন, সৌন্দর্য বা আদর্শের সন্ধানে ছুটে চলার মধ্যেই জীবনের আনন্দ ও সার্থকতা নিহিত থাকতে পারে। এখানে ‘সোনার হরিণ’ তাই শুধু একটি হরিণ নয়; এটি মানুষের অধরা স্বপ্ন ও চিরকাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যের প্রতীক।


